Shakib al hasan
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন একজন খেলোয়াড় আছেন,
যিনি ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দেশের ভরসা হয়ে উঠেছেন।
তিনি হলেন সাকিব আল হাসান।
সাকিব আল হাসানের জন্ম ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ, মাগুরা জেলায়।
তার পিতা মাশরুর রেজা ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং
মাতা শিরীন শারমিন একজন গৃহিণী।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল।
শৈশবে তিনি টেপ টেনিস বল দিয়ে খেলতেন।
পরবর্তীতে মাগুরার ইসলামপুর পাড়া ক্লাবের মাধ্যমে
তার সংগঠিত ক্রিকেট জীবনের শুরু হয়।
এরপর তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিকেএসপিতে
প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাতীয় লিগে খুলনা বিভাগের হয়ে খেলেন।
অল্প বয়সেই তিনি অনূর্ধ্ব–১৯ দলে জায়গা করে নেন।
২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে
মাত্র ৮৬ বলে শতক হাঁকান এবং তিনটি উইকেট নেন।
এই পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছে দেয়।
২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে
ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়।
একই বছর তিনি টি–টোয়েন্টিতেও অভিষেক করেন।
২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।
২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে
৭ উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন সাকিব।
এটি তখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা পারফরম্যান্স ছিল।
পরবর্তী বছরগুলোতে সাকিব নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তিনি টেস্ট, ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি—
তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেন।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ে
সাকিব আল হাসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এই সিরিজে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন।
২০১২ এশিয়া কাপে তিনি ২৩৭ রান ও ৬ উইকেট নিয়ে
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে।
২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান ও উইকেটের রেকর্ড গড়েন তিনি।
২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসান
বাংলাদেশের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ ৬০৬ রান করেন।
এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে
সেরা অলরাউন্ডারদের কাতারে নিয়ে যায়।
ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি
৬,০০০-এর বেশি রান এবং ২৫০-এর বেশি উইকেট অর্জন করেন,
যা তাকে দ্রুততম অলরাউন্ডারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে
২০১২ ও ২০১৪ সালে শিরোপা জয় করেন।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে তিনি একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হন
এবং চারবার টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
তার ক্যারিয়ারে
৪০টির বেশি ম্যান অব দ্য ম্যাচ
এবং ১৬টি ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার রয়েছে।
২০২৪ সালে সাকিব আল হাসান
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে
মাগুরা–১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে
তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।
ক্রিকেট মাঠ হোক কিংবা জাতীয় জীবন—
সাকিব আল হাসান সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।
তিনি শুধু একজন ক্রিকেটার নন,
তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি অধ্যায়।